ঢাকা , শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ , ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জীবনের পড়ন্ত বেলায় কোরআন শিখছেন ৪২ প্রবীণ ফেসবুকের ভিডিওতে তিন মাস পর নিখোঁজ স্ত্রীকে ফিরে পেলেন স্বামী রূপগঞ্জে বন্ধুকে আটকে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ রাজশাহীতে ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মদ্যপ পরিচালকের দরজায় ধাক্কা, আতঙ্কে রাত কাটিয়েছিলেন স্বরা স্বামীর পরকীয়ার খবর জেনেও ১২ বছর সংসার টিকিয়েছিলেন জিনাত আমান তৈরি পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধিতে বাড়ল রপ্তানি আয় ভোলার গ্যাসে নতুন সম্ভাবনা, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১ হাজার ৭৪৭ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে মাদক ও জুয়াবিরোধী সমাবেশ,সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান পুলিশ সুপারের সিংড়ায় পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ মহানগরীজুড়ে মাদক কারবারি সহ গ্রেপ্তার ২৫ চলনবিলে ৫০ বক উদ্ধার, ৩ শিকারির জেল-জরিমানা রাজশাহী সীমান্তে ভারতীয় মাদক জব্দ কড়া নিরাপত্তায় রূপপুরের পথে ইউরেনিয়াম বহর কন্ডাক্টরের ভূমিকায় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী, নারীদের দিলেন বিনামূল্যে বাসের টিকিট জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক ম্যাসাচুসেটসে মিলল দুই মাথাবিশিষ্ট বিরল কচ্ছপছানা রোম বিমানবন্দরে ২৮ কেজি রুপা ও গয়না জব্দ, বাংলাদেশির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ঢাকায় রুয়েটিয়ানদের ‘ডে লং ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ ১১ ডিসেম্বর

প্রশ্ন করতেই সাংবাদিকের ক্যামেরা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা এসিল্যান্ডের, দিলেন গালিও

  • আপলোড সময় : ১৯-০৬-২০২৬ ০৪:৪৮:২৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-০৬-২০২৬ ০৪:৪৮:২৮ অপরাহ্ন
প্রশ্ন করতেই সাংবাদিকের ক্যামেরা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা এসিল্যান্ডের, দিলেন গালিও ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে অর্পিত সম্পত্তি (সরকারি জমি) ব্যক্তিমালিকানাধীন দেখিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা উত্তোলনের বিষয়ে তথ্য জানতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন। প্রশ্নের সদুত্তর না দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করেন এবং ক্যামেরা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে সাদুল্লাপুরের ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে। সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু ও যমুনা টিভির প্রতিবেদক জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন তাদের দেখামাত্রই মোবাইল জমা রাখার নির্দেশ দেন। 
 
সাংবাদিকরা সরকারি টাকা উত্তোলনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি চেয়ার থেকে উঠে আঙুল তুলে ধমকাতে থাকেন। একপর্যায়ে ‘এটা কি ফাজলামোর জায়গা’ বলে তেড়ে এসে ক্যামেরা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। ক্যামেরায় কেন হাত দিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি ‘এটা কি রেকর্ডের জায়গা’ বলে সাংবাদিকদের অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং ধমকাতে ধমকাতে গাড়িতে উঠে অফিস ত্যাগ করেন।
 
অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য সাদুল্লাপুরের হাসানপাড়া মৌজায় সাড়ে ছয় শতক জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জমি ও স্থাপনা বাবদ ২ কোটি ৮০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩২ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে ছাড় করা হয়। এই টাকা তুলে নেন পাশের পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অধিগ্রহণ করা ওই জমিটি মূলত অর্পিত সম্পত্তি।
 
এই সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে খোদ ভূমি অফিসেরই দুটি ভিন্ন প্রতিবেদন রয়েছে। ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর সাদুল্লাপুর এসিল্যান্ড এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেন, এই সম্পত্তিতে সরকারের কোনো স্বার্থ জড়িত নেই। অথচ ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল ধাপেরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সম্পত্তিতে সরকারি স্বার্থ জড়িত আছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সাবেক ৭৬ দাগের সাড়ে ছয় শতক জমি অর্পিত ‘ক’ তালিকাভুক্ত, যা বাংলাদেশ গেজেটের ৪৫১০ নম্বর পৃষ্ঠার ১২৪ নম্বর ক্রমিকে প্রকাশিত হয়েছে।
 
এই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় আপত্তি দিয়েছিলেন একই ইউনিয়নের আসাদুল্লাহ ফারুকী। তার দাবি, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রতিপক্ষ জাহাঙ্গীর ক্ষতিপূরণের টাকা তুলে নিয়েছেন। অর্পিত সম্পত্তি হলে কীভাবে এই টাকা পরিশোধ করা হলো, সেটাই তার প্রশ্ন। অন্যদিকে, ক্ষতিপূরণ পাওয়া জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের দাবি, তার মালিকানার পর্যাপ্ত কাগজপত্র ও প্রমাণের ভিত্তিতেই তিনি টাকা তুলেছেন এবং এ বিষয়ে এলএ শাখার কর্মকর্তারাই জবাব দেবেন।
 
ভূমি অফিসের দুই রকম প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে এর আগে গত ২ জুন সাদুল্লাপুরের এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিনের কাছে গেলে সেদিনও তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লাকে জানালে তিনি খাসজমি সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি ও সাদুল্লাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের বক্তব্য নেয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ইউএনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কথা বলা যাবে না কেন এমন প্রশ্ন করলে ইউএনও উল্টো এসিল্যান্ডের মতো আচরণের পুনরাবৃত্তির হুমকি দেন।
 
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা আশরাফুল হকের কাছে গেলেও তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল মামুন বলেন, ‘নিয়ম মেনে প্রকৃত মালিককেই অধিগ্রহণের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।’

নিউজটি আপডেট করেছেন : md.masudrana2008@gmail.com

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহীতে ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রাজশাহীতে ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত